৫ জানুয়ারি ঘিরে দু দলে উত্তেজনা

মোট দেখেছে : 26
প্রসারিত করো ছোট করা পরবর্তীতে পড়ুন ছাপা

আগামী ৫ জানুয়ারিকে ঘিরে দেশের বৃহৎ দুই রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে আবারো উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। গত তিন বছরের মতো দিনটিতে এবারো কর্মসূচি ঘোষণা করেছে প্রধান দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। দিবসটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ আখ্যা দিয়ে রাজধানীসহ সারা দেশে কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সরকারবিরোধী দল বিএনপি।

অন্য দিকে একই দিনকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করতে সারা দেশে র্যালি ও সমাবেশ ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। ফলে নতুন বছরের শুরুতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে রাজনীতি। দুই দলের এমন পাল্টাপাল্টি এমন অবস্থানে যেকোনো ধরনের সঙ্ঘাতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় না হওয়ায় ২০১৪ সালের এই দিনটিতে অনুষ্ঠিত নবম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল। তাদের বাইরে রেখেই একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। এর পর থেকে প্রতি বছরই বিএনপি দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে। এবারো সারা দেশে কালো পতাকা মিছিল ও ঢাকায় সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে তারা।

কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চাইলেও এখনো তাদের অনুমতি দেয়া হয়নি। জানা গেছে, ওই দিন ইউনাইটেড ইসলামিক পার্টি নামক একটি সংগঠনকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তারা সেখানে জঙ্গিবিরোধী ওলামা সমাবেশ করবে। বিএনপি নেতারা বলছেন, তারা এই দিনকে ঘিরে কোনো সঙ্ঘাতে যেতে না চাইলেও সরকার একটি নাম গোত্রহীন দলকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ দিয়ে চরম নোংরামি করেছে।

অন্য দিকে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ দিনটিকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ ঘোষণা দিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করে আসছে। এবারো সারা দেশে বিজয় ও আনন্দ র্যালি এবং রাজধানীতে সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই দিন তারা বিএনপিকে মাঠে নামতে না দেয়ার ঘোষণা দিয়ে দু’টি সমাবেশ ডেকেছে। পুরো ঢাকায় ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিচ্ছে মহানগর আওয়ামী লীগ। পাল্টাপাল্টি এসব কর্মসূচি ঘোষণার ফলে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচন একটি বিতর্কিত নির্বাচন। ক্ষমতায় টিকে থাকতেই সংবিধান সংশোধন করে দলীয় সরকারের অধীনে একতরফা এ নির্বাচন করেছিল আওয়ামী লীগ। সরকারি দল যতই এ দিনটিতে বিজয় উৎসব করুক না কেন, দেশে-বিদেশে কেউই ওই নির্বাচন মেনে নেয়নি। সরকার যতই প্রচার করুক ওই নির্বাচন নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রভাবশালী দেশেগুলোর নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এখনো পাল্টায়নি।

ওই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে হত্যা করেছে আওয়ামী লীগ। সে জন্য দশম সংসদ নির্বাচনের দিনটিকে গণতন্ত্র হত্যা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে দলটি। আর একতরফা নির্বাচনের সেই দিনটি জাতিকে স্মরণ করিয়ে দিতেই বিএনপি কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এ দিন ঢাকার বাইরে সব জেলা-উপজেলায় কালো পতাকা মিছিল আর রাজধানীতে কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি।

বিএনপি বলছে, তাদের এ কর্মসূচি পালিত হবে শান্তিপূর্ণভাবে। তবে সরকারি দল যদি এতে বাদসাধে, পরিস্থিতির দায় তাদেরই নিতে হবে।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনকে টার্গেট করে এবারের কর্মসূচিতে বড় ধরনের জমায়েত করার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। ঢাকার বাইরেও ঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

আরো দেখুন

সর্বশেষ ফটো